November 30, 2025, 8:44 pm
নিউজ ডেস্ক: ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মসজিদে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করেছে। এ ঘটনায় দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নিহাল আওয়াদ এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, আসলে মসজিদ, চার্চ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় গ্রন্থের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ‘ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি মুছে ফেলা প্রকল্পেরই’ অংশ।
তিনি আরো বলেন, ইসলাম ও খ্রিস্টবাদের বিরুদ্ধে জায়নবাদীদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবই মূলত গাজায় চালানো গণহত্যার অন্যতম প্রেরণা।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলি সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে খর্ব করার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।
তিনি ফিলিস্তিনিদের উপর চালানো এই গণহত্যা বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে একত্রে পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান।
সূত্র : আল জাজিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৯ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার—বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর কোলঘেঁষা সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি গ্লাস ফ্যাক্টরি। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা ছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস-এর অধীনে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর পার দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় আজ প্রশাসনের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করে। এই সময় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ বাহিনী অভিযান কাজে সহায়তা করে। অভিযান চলাকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, সরকারি খাস জমিতে অনুমতি ছাড়া টিএমএসএস কর্তৃক গ্লাস ফ্যাক্টরি নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। জনস্বার্থ, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নদীর ধারে দখল হওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। উচ্ছেদের ফলে করতোয়ার স্বাভাবিক গতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, টিএমএসএস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসন সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা গোয়েন্দা শাখা, বগুড়া’র বিশেষ অভিযানে দুইজন সন্মানিত সাংবাদিকসহ তিনজনকে মারপিট ও লাঞ্চিতের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ কিশোর গ্যাংয়ের ০৬(ছয়)জন সদস্য ০২ (দুই)টি বার্মিজ চাকুসহ আটক। গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় বগুড়া জেলার সদর থানাধীন জলেশ্বরীতলা এলাকাস্থ জেলখানা মোড়ে অবস্থিত ফ্রেস জুস বারের সামনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বগুড়া প্রতিনিধি জনাব খোরশেদ আলম এবং অনলাইন পোর্টাল বগুড়া লাইভের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জনাব আসাফুদৌলা নিয়ন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা তৌফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে কতিপয় আসামীগণ বেধড়ক মারপিট ও লাঞ্চিত করে।
এ সংক্রান্তে তাৎক্ষণিক বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ, ডিবি বগুড়া জনাব মোঃ ইকবাল বাহার এর নেতৃত্বে ডিবি বগুড়া’র একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইং ০৬/০৪/২০২৫ তারিখ ২৩.৪৫ ঘটিকার সময় বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন বনানী এলাকা হইতে উক্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২২), পিতা-মোঃ আব্দুল মতিন, সাং-গন্ডগ্রাম দক্ষিণপাড়া, থানা-শাজাহানপুর, জেলা-বগুড়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা অন্যান্য সহোযোগী আসামী ২। মোঃ হাবিবুর রহমান রকি (২৫), পিতা-মোঃ বেলাল হোসেন, সাং-গন্ডগ্রাম উত্তর পাড়া, ৩। মোঃ তারিকুল ইসলাম (২২), পিতা-মোঃ হারুনুর রশিদ, সাং-গন্ডগ্রাম নতুন পাড়া, ৪। মোঃ জিসান খান (২১), পিতা-মোঃ জিন্নাহ খান, সাং-গন্ডগ্রাম নতুনপাড়া, ৫। মোঃ জিহাদ (২০), পিতা-মৃত মিলন হোসেন, সাং-গন্ডগ্রাম সারিয়াকান্দি পাড়া সর্ব থানা-শাজাহানপুর, জেলা-বগুড়া, ৬। মোঃ টুটুল (২০), পিতা-মোঃ আনারুল সরকার, সাং-মালতিনগর স্টাফ কোয়ার্টার বটতলা, থানা-বগুড়া সদর, জেলা-বগুড়াগণের আটক করা হয়। আটককৃত আসামীদের হেফাজত হইতে ০২(দুই) টি বার্মিজ চাকু, ০২(দুই) টি মোটর সাইকেল, ০৩(তিন) টি মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২২), এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে হত্যা, মাদকসহ ০২টি মামলা এবং ধৃত আসামী মোঃ হাবিবুর রহমান রকি (২৫), এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা চেষ্টা, মাদক আইনে সর্বমোট ০৬টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মারপিটের ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। ঘটনার সহিত জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।
গাবতলী (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে এক পরিবারের পায়ে হেঁটে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবারটির চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শুধু তা-ই নয়, এর আগে একই বিরোধে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের শফিকুল ইসলাম নামে এক সদস্যকে হত্যা করা হয়।
গত ২১ জানুয়ারি নিহত শফিকুলের ভাই শহিদুলকেও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে একই দিন তিনি গাবতলী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন শহিদুল।
অভিযুক্তরা হলেন, গাবতলীর বাইগুনি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে রিপন, গোলাম রব্বানী স্বপন ও আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। এ তিনজনই দাঁদন ব্যবসায়ী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা শহিদুল ও তার অংশীদারদের বাড়ি থেকে বের হয়ে ফসলী জমিতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর আগে, ১৯৯৩ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে শহিদুলের ভাই শফিকুলকে হত্যা করেন অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগীরা। সেই সময় থেকেই স্বপনদের সঙ্গে শহিদুলদের দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
গত ২১ জানুয়ারি শহিদুল চলাচলের স্থায়ী রাস্তা তৈরীর কাজ করছিলেন। ওই সময় অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর (কিল-ঘুষি ও লাথি) করেন। সেইসাথে শহিদুলের ভাই রানাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
শহিদুল ও রানা জানান, বাড়ির পেছনে তাদের পারিবারিক কবরস্থান ও ফসলি জমি। চলাচলের রাস্তা না পেলে তারা কবরস্থান যেতে পারবেন না এবং আবাদি জমিতেও চাষাবাদ করতে পারবেন না। পায়ে চলাচলের রাস্তা চাইতে গেলেই অভিযুক্তরা তাদের হত্যার হুমকি দেন। এমনকি তারা বলেন, তাদের এক ভাইকে খুন করেছেন প্রয়োজনে আরও হত্যা করবেন।
স্বপন ও অন্যান্য অভিযুক্তরা শহিদুলদের প্রায় দেড় বিঘা জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত স্বপন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সবই মিথ্যা। আমাদের মানসম্মান নষ্ট করার জন্য অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গাবতলী মডেল থানা পুলিশের ওসি আশিক ইকবাল জানান, খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর বাজারে সোমবার সন্ধ্যায় ১২টি সোনার বার সহ একজনকে আটক করেছে বিরামপুর থানা পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। আটককৃত ব্যক্তি বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার চাপাপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের গিরেন মহন্তের ছেলে জয়দেব মহন্ত। সোনার বারগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো বলে জানা গেছে।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমতাজুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২টি সোনার বার সহ একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পরে আটককৃত আসামিকে মঙ্গলবার দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আব্দুল মমিন (২৩) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী পরিবার উপর।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার উপজেলা খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন জোকা মন্নাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার আব্দুল মমিন উপজেলার খোট্টাপাড়া জোকা গ্রামের আব্দুল খালেক ছেলে। সে বগুড়া ঠনঠনিয়া নুরুন আলা নুর ফাযিল মাদরাসা ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বড়ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলা জোকা গ্রামে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ভোট, একরাম হোসেন সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাদক সহ বিভিন্ন অপকর্মে করে আসছে।তারা প্রতিনিয়ত মাদক কেনাবেচা করতেন। বিষয়টি নিয়ে তাদেরকে একাধিক বার বারণ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি প্রদান করে আসছিল। এরই জের ধরে আজ সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দলবল নিয়ে রবিউল ইসলাম ভোটের বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্য আব্দুল মমিন এর উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এসময় তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার নাক, মাথা,হাত ও পায়ের হাটুসহ শরীরের নানান স্থানে আঘাত করে ।পরে তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আব্দুল খালেক বলেন, উপজেলা মাদক সম্রাট হিসেবে রবিউল ইসলাম ভোট পরিচিত।
আমার ছেলে আব্দুল মমিন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করায় জনসম্মুখে দলবল নিয়ে আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেন তারা। আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। আমি এঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ভোট বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়াদুদ আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে নানা অনিয়ম ও অস্থিরতায় জর্জরিত। প্রধান শিক্ষক মির্জা দিলরুবা লাকীর অভিযোগ অনুযায়ী,উক্ত বিদ্যালয়ের,সাবেক সভাপতি, সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম দুদু ও তার পরিবার প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে বারবার বগুড়া জেলা প্রশাসক, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জমান শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও মঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম দুদু তার প্রতিবেশী। নুজ্জামানের রাজনৈতিক প্রভাবে আব্দুল হালিম দুদু ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর এক রেজুলেশনের মাধ্যমে স্কুলের আর্থিক দায়িত্ব গ্রহন করেন। তখন থেকেই প্রধান শিক্ষক কোন ঠাসা হয়ে যান।
ইতিপূর্বে মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের পর মোট ৯৬ লাখ টাকা দুদুর পরিবারের সদস্যরা উত্তোলন করেন। এছাড়া স্থাপনা বাবদ প্রাপ্ত ২ কোটি ৯০ হাজার টাকাও চলে যায় দুদর হাতে। আর্থিক দায়িত্বের কর্তৃত্ব ও সভাপতি নুরুজ্জামানের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এর বেশিরভাগ অর্থও আত্মসাৎ করেন। বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মির্জা দিলরুবা লাকী এসবেরও প্রতিবাদ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল হালিম দুদু আরও আক্রমনাত্মকভাবে বিএনপি দলীয় পরিচয়ে আবির্ভুত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করেন। এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকায় আছেন বলে জানিয়েছেন পদত্যাগকারী প্রধান শিক্ষক মির্জা দিলরুবা লাকী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা স্কুলের অনিয়মের বিষয়ে কিছু জানে না। তবে সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম দুদু প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাদের উস্কে দিয়েছে।
এখন বিএনপি দলীয় পরিচয় দিলেও আব্দুল হালিম দুদুর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে ১০ বছর আগে মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে দলছুট বলে দাবি করছেন।
জানতে চাইলে মাঝিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে নুরজ্জামানের সাথে থেকে স্কুলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ক্ষমতার পালাবদল হলে তিনি বিএনপির পরিচয়ে জোর করে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা লাকীকে সরিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে রেখেছেন। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং এতে আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।“
তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল হালিম দুদু। তিনি বলেন, আমাকে কখন আর্থিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমার জানা নেই। তাছাড়া স্কুলের ব্যাংক একাউন্ট সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। তারা নিজেরাই টাকা আত্মসাৎ করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক মীর্জা দিলরুবা লাকীকে হত্যার হুমকি ও জমির টাকা আত্মসাতের বিষয় আমার জানা ছিল না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফটো গ্যালারী